কোটি টাকার ‘স্মার্ট সিটি’ পার্কে নেশার আসর! আবর্জনা আর দুর্গন্ধে বেহাল বটতলা!
নিজস্ব প্রতিনিধি: কোটি কোটি টাকা খরচ করে ‘স্মার্ট সিটি’ প্রকল্পের আওতায় সাজানো হয়েছে আগরতলার বটতলা এলাকার পার্ক। উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু বর্তমানে সেই পার্কের চিত্রই যেন উল্টো কথা বলছে। অভিযোগ, পার্কের ভিতরে চলছে নেশার আসর, আর চারপাশে জমছে মাছ বাজারের বর্জ্য ও আবর্জনা। প্রশ্ন উঠছে—স্মার্ট সিটির সৌন্দর্যায়ন হলেও নাগরিক নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা কি আদৌ স্মার্ট হয়েছে?আগরতলার বটতলা। ব্যস্ত মাছ বাজারের পাশেই কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের আওতাধীন এই পার্ক।কিন্তু বর্তমানে পার্কের আশপাশের পরিবেশ দেখলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—এই কি সেই স্বপ্নের স্মার্ট সিটি?পার্কের দেওয়াল ঘেঁষে পড়ে রয়েছে মাছ বাজারের বর্জ্য, মাছের অবশিষ্টাংশ, মাছের পেটি এবং বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা। দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশে কার্যত নাজেহাল সাধারণ মানুষ।শুধু পার্কের বাইরেই নয়, অভিযোগ উঠছে পার্কের ভিতরের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে আবর্জনা, মদের খালি বোতলসহ নানা সামগ্রী।অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার পর এই পার্কেই বসছে নেশার আসর। ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে পরিবার নিয়ে পার্কে আসতে অনেকেই অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে পার্কের সামনের রাস্তা ও মাছ বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে।অভিযোগ, পুর নিগমের আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ি এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকলেও তার আশপাশেই রাস্তা ও পার্কের দেওয়াল ঘেঁষে ফেলে রাখা হচ্ছে মাছ বাজারের বর্জ্য।ফলে একদিকে দুর্গন্ধ, অন্যদিকে নোংরা পরিবেশ—সব মিলিয়ে বটতলা স্মার্ট সিটি পার্ক এখন যেন সৌন্দর্যায়নের বদলে অব্যবস্থাপনার ছবি তুলে ধরছে।জনসাধারণের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছিল এই পার্ক। কিন্তু বর্তমানে পার্কের ভিতরে নেশার আসর বসার অভিযোগ, বাইরে মাছ বাজারের বর্জ্য এবং চারপাশে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে এই পার্কের প্রকৃত সুবিধা পাচ্ছেন কারা?প্রশ্ন উঠছে পুলিশ, পুর নিগম এবং স্মার্ট সিটি কর্তৃপক্ষের নজরদারি নিয়েও।পার্কের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের নজরদারি থাকা সত্ত্বেও যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে এই অব্যবস্থার দায় নেবে কে?স্মার্ট সিটির নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করে পার্ক তৈরি করলেই কি দায়িত্ব শেষ?নাকি সেই পরিকাঠামোকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, নিরাপদ রাখা এবং সাধারণ মানুষের ব্যবহারযোগ্য করে রাখাও প্রশাসনের দায়িত্ব?একদিকে কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থে সৌন্দর্যায়ন, অন্যদিকে সেই পার্কেই নেশার আসর ও আবর্জনার স্তূপ—বটতলার এই ছবি যেন ‘স্মার্ট সিটি’র বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই—স্মার্ট সিটি কি শুধু সৌন্দর্যায়নে, নাকি নাগরিক নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাতেও হবে ‘স্মার্ট’?