শিক্ষাক্ষেত্রে গৌরবময় তিন দশক পূর্তির উদযাপন
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতীয় বিদ্যা ভবনের প্রতিষ্ঠা দিবস স্মরণ এবং ত্রিপুরা রাজ্যে ভবনস ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির, আগরতলার শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্য, গৌরব ও নিষ্ঠাপূর্ণ সেবার ৩০টি গৌরবময় বছর পূর্তি উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আযোজন করা হয়েছে এক বিশেষ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা 'দ্য পার্ল প্রসেশন' (The Pearl Procession)এই শোভাযাত্রা কেবল একটি র্যালি নয়; এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পথচলা, সাফল্য, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের এক গৌরবময় উদ্যাপন। মুক্তো যেমন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার নিজস্ব ঔজ্জ্বল্য ও সৌন্দর্য অর্জন করে, তেমনই গত তিন দশকে ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও উৎকর্ষের প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে তার শিক্ষাগত ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ ও সুদৃঢ় করে তুলেছে।ত্রিপুরায় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির শিক্ষার্থীদের জন্য এমন এক সুষম শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে এসেছে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ওপর সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় বিদ্যা ভবনের শিক্ষা-দর্শন ও আদর্শকে পাথেয় করে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিনিয়ত এমন দায়িত্বশীল নাগরিক ও মানবিক মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে, যাঁরা সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অর্থবহ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।'দ্য পার্ল প্রসেশন' প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৃহত্তর সমাজের এক নিবিড় সম্পর্কের প্রতিফলন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভবন পরিবারের বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্য, প্রাক্তন সহকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের একসূত্রে আবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পথচলার সাফল্য ও অর্জনকে ঘিরে সকলের সম্মিলিত গর্ব, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে এই শোভাযাত্রায়।এই শোভাযাত্রায় বিদ্যালয়ের প্রাক্তন (এলামনি) ছাত্রছাত্রীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছেল। তাঁদের আন্তরিক উদ্যোগ ও সহযোগিতায় শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের জন্য পানীয় ও জলখাবারসহ প্রয়োজনীয় রিফ্রেশমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা ও সহযোগিতার এই মনোভাব সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক সুন্দর বন্ধন ও ঐক্যের পরিচয় বহন করে।এই বিশেষ অনুষ্ঠানে ভবন পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ঐক্য, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষত, প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন সহকর্মীদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ অত্যন্ত মূল্যবান। তাঁদের অবদান, আন্তরিকতা ও দীর্ঘদিনের সহযোগিতা প্রতিষ্ঠানের এই গৌরবময় পথচলাকে সমৃদ্ধ করেছে।শিক্ষাক্ষেত্রে তিন দশকের এই সাফল্যের মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করতে চায় পরিচালন সমিতি, অধ্যক্ষ-অধ্যক্ষা, শিক্ষক-শিক্ষিকা, প্রশাসনিক কর্মী, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সকল শুভানুধ্যায়ীর অবদান। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতাই প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেছে এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।এই উদ্যাপন একদিকে যেমন অতীতের সাফল্য ও অর্জনের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, অন্যদিকে তেমনই ভবিষ্যতের জন্য এক নতুন অঙ্গীকার। পরিবর্তনশীল শিক্ষাব্যবস্থা ও সময়ের সঙ্গে উদ্ধৃত নতুন সম্ভাবনাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি উদ্ভাবনী শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার পরিবেশ, চরিত্র গঠন এবং শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে চলেছে।'দ্য পার্ল প্রসেশন'-এর মধ্য দিয়ে ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির, আগরতলা ভারতীয় বিদ্যা ভবনের মহান আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি তার অঙ্গীকারকে পুনরায় দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করতে চায়। জ্ঞান, মূল্যবোধ, সেবা ও উৎকর্ষের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই দীর্ঘ ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।ত্রিপুরায় শিক্ষার প্রসারে নিজেদের ৩০ বছরের গৌরবময় যাত্রা উদ্যাপনের এই বিশেষ মুহূর্তে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উদ্যম, উৎসাহ ও নিষ্ঠার সঙ্গে আগামী দিনের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে। আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করা এবং রাজোর শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখাই ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হয়ে থাকবে।